আলহামদুলিল্লাহি কাফা ওয়া সালামুন আলা ইবাদিহিল লাজি নাসতোফা, আম্মা বা'দ -
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী বিশ্ব মানবতার অনুপম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা পবিত্র কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা প্রদান করে। এ আদর্শকে সামনে রেখে প্রগতির এ যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে শহর কেন্দ্রিক আধুনিক একটি বহুমুখী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে ডিসেম্বর মাসে দি কুরআনিক হোম নাম দিয়ে বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট শহরের শাহজালাল উপশহরে যাত্রা শুরু করে।
আলহামদুলিললাহ,
উৎসাহিত পরিচালক ও শেয়ার হোলডারদের সহায়তায় ২০১১ সালে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষে সিলেট হুমায়ুন রশিদ চত্তর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সাড়ে ৪৮ শতাংশ ভূমি ক্রয় করা হয়।
পবিত্র কুরআন যেমন সার্বজনীন তেমনি কুরআনিক হোমের কার্যক্রম হবে বিশ্ব ব্যাপী, ইনশাআল্লাহ। ইতিমধ্যে দি কুরআনিক হোম সিলেট তথা বাংলাদেশে হিফজ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে আমি মনে করি। শুধু দেশেই নয়; ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ থেকে ছাত্ররা এখানে এসে অবস্থান করে সফলতার সাথে হিফজ সম্পন্ন করছে। তাই দি কুরআনিক হোম এসোসিয়েটস এর চুড়ান্ত লক্ষ পানে পৌঁছতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন অধীকৃত ভূমিতে নিজস্ব ভবন তৈরি করা। এরই লক্ষে সম্মানিত পরিচালক বৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।
পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডারদের পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের অসাধারণ ফলাফল, শিক্ষক বৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অভিভাবকদের সদিচ্ছা আমাদের আগামী দিনের শক্তি ও সাহস।
মাআসসালাম,
মানুষ স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবে রুপায়নের জন্য। কারো স্বপ্ন সূচনালগ্নেই ভঙ্গ হয়ে যায়, আবার কারোবা মাঝ পথে। খুব অল্প সংখ্যাক মানুষই তাদের স্বপ্নকে সফলতার বন্দরে কাংক্ষিত রুপদানে সমর্থ হন। আমাদের স্বপ্নের অংকুরে পানি ঢালতে কোন এক অলস দুপুরে আমি ও হাফিজ ফয়েজ ক্লাসিক ইন্টারনেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এর হোস্টেলে আমার রুমে একান্তে বসে আমাদের মাদ্রাসার দি কোরানিক হোম নামকরণের মধ্যে দিয়ে যখন যাত্রার ডাইরির সূত্রপাত করি তখন ও আশার আলো নীল আকাশের এক গুচ্ছ মেঘের আড়ালে লোকায়িত। বুকের পিন্জরে আগলে রাখা স্বপ্নটা শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত উক্তি “To be or not to be” স্বরণ করিয়ে দেয় আমরা কি পারব? তবে আশা-নিরাশার দোলাচলে থাকা মনটা বিশ্ব বিখ্যাত আধুনিক লেখক শিব খেরার তুমিও জিতবে বইটির চমৎকার শিক্ষা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
অনেক চড়াই-উৎরাই-ব্যর্থতা পেরিয়ে যেটুকু সফলতা আমরা পেয়েছি তা কেবল আমাদের আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়-মনোবল অটুট ঐক্য আর আল্লাহর বিশেষ মদদেই সম্ভব হয়েছে।আমরা জানি, আমাদের যাত্রাপথ মোটেও ফুলেল বা কুসুমাস্তৃর্ণ নয় বরং তা কন্টকাকীর্ণ।তবে হ্যা তা মোটও অলঙ্গনীয় নয়।আমরা যদি অটুট মনোবল ও ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে আগামীর পথ চলি তবে মাকসুদে মনজিলে পৈাছতে পারবই ইনশাআল্লাহ।আমাদের যাত্রা মিছিলে যারা শামীল হয়েছেন বা আগামীতে হবেন তাদের কারো অবদান একটু বেশী হতে পারে আবার কারো অবদান একটু কম হতে পারে তবে মোটেও নেগলিজিবল নয়।মনে রাখতে হবে ছোট বড় অবদানের সমন্বয়েই আমরা আজ এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমরা সকলের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এবং মহাণ আল্লার দরবারে সকলের জন্য দোয়া করি তারা যেন তাদের ইহকাল এবং পরকালের জন্য তাদের তাদের অবদানের উপযুক্ত মূল্যায়ন আল্লাহ যেন দিয়ে থাকেন । আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে এ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের একনিষ্ঠভাবে খেদমত করার সুযোগ দান করেন ।
আমিন
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশ ও জাতির সম্পদ। শিক্ষা এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ যা মানসিক ও মেধা শক্তির বিকাশ ঘটায়। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রেরণা যোগায়। জীবনের অন্ধকার দূর করে। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্ট্রীয় তথা জাতীয় জীবনে গুণগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
শিক্ষার গুরুত্ব কি উপলব্ধি করেই গড়ে উঠেছে মানুষ গড়ার কারখানা আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দি কুরআনিক হোম।
শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা হজম করে কোন শিক্ষার্থী পূর্ণ ভাবে বিকশিত হতে পারেনা। আমরা চাই একজন শিক্ষার্থীকে সবদিক থেকে পরিপূর্ন মানুষ রূপে গড়তে। বইয়ের পোকা হয়ে কেবল পরীক্ষার ফলাফলে দেশের সেরা হলে চলবে না। বরং জ্ঞান - বিজ্ঞানের এ-যুগে চোখ কান খোলা রেখে সার্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে নিজেরা সঠিক পথ চিনবে, অন্যদেরকে দেখাবে নতুন পথের দিশা।
দি কুরআনিক হোম প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা, সাংস্কৃতি এবং ক্রীড়াঙ্গন সহ পাঠ্যক্রম বহির্ভূত সকল ক্ষেত্রে সেরা হয়ে গড়ে উঠবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সকল প্রতিষ্ঠানে এক রকম নয়।শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবাই সৃষ্টি করতে পারে না। তথ্য প্রযুক্তির এ-যুগে সার্বিক সহায়ক পরিবেশের মধ্য দিয়ে জনসচেতনতা, দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও কর্তব্য পরায়ণতা সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এ সকল প্রচেষ্টা দ্বারা অঙ্গীকারবদ্ধ হই দি কুরানিক হোমকে এদেশের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করে গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।